Skip to main content

উইকিপিডিয়া অনুসারে হিন্দু ধর্ম কি?


উইকিপিডিয়া অনুসারে হিন্দু ধর্ম কি? হিন্দুধর্ম (সনাতনধর্ম) ভারতীয় উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক মতবাদ ।[১] হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণ স্বীয় ধর্মমতকে সনাতন ধর্ম (सनातन धर्म) নামেও অভিহিত করেন।[২][৩] হিন্দুধর্মের সাধারণ "ধরনগুলির" মধ্যে লৌকিক ও বৈদিক হিন্দুধর্ম থেকে বৈষ্ণবধর্মের অনুরূপ ভক্তিবাদী ধারার মতো একাধিক জটিল মতবাদগুলির সমন্বয়ের এক প্রচেষ্টা লক্ষিত হয়। যোগ, কর্মযোগ ধারণা, ও হিন্দু বিবাহের মতো বিষয়গুলিও হিন্দুধর্মের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। হিন্দুধর্ম একাধিক ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গঠিত। এই ধর্মের কোনো একক প্রতিষ্ঠাতা নেই।[৪] লৌহযুগীয় ভারতের ঐতিহাসিক বৈদিক ধর্মে এই ধর্মের শিকড় নিবদ্ধ। হিন্দুধর্মকে বিশ্বের "প্রাচীনতম জীবিত ধর্মবিশ্বাস"[৫] বা "প্রাচীনতম জীবিত প্রধান মতবাদ"[৬][৭][৮][৯] আখ্যা দেওয়া হয়। হিন্দুধর্মকে বলা হয় পৃথিবীর প্রাচীনতম ধর্ম। কারন এটি প্রাচীনযুগে আর্বিভূত হয়েছে। [note ১] এবং ধর্মাবলম্বীরা একে সনাতন ধর্ম ("চিরন্তন নিয়ম বা চিরন্তন পথ") বলে আখ্যায়িত করেন[১০]। পশ্চিমা পন্ডিতরা হিন্দুধর্মকে বিভিন্ন ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের [১১][note ২] সংমিশ্রণ[note ৩] এবং সংশ্লেষণ[১২][note ৪] হিসেবে গন্য করেন যার মূলে একক কোন ব্যক্তির অবদান নেই[১৩] এবং এর একাধিক উৎপত্তি উৎস রয়েছে[১৪][note ৫]। এটি সনাতনি বা চিরন্তন কর্তব্যের কথা যেমন সততা, অহিংসা, ধৈর্যশীলতা, সমবেদনা ও আত্মনিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি আরো অনেক কথা বলে।[web ১][১৫] হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আছে (কিন্তু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়) পুরুষাত্মা, যা মানব জীবনের সঠিক উদ্দেশ্য। এর মধ্যে আছে ধর্ম (নীতি), অর্থ, কাম এবং মোক্ষ (জন্ম মৃত্যুর পুন পুন অবস্থা থেকে মুক্তি)[১৬][১৭]; কর্ম (কাজ, অভিপ্রায় ও ফল); এবং বিভিন্ন ধরনের যোগ সাধনা (মোক্ষ লাভের পথ)। হিন্দুদের নিত্যকর্মের তালিকায় আছে পূজা, অর্চনা, ধ্যান, পারিবারিক সংস্কার , বার্ষিক অনুষ্ঠান এবং তীর্থযাত্রা। কেউ কেউ সমাজ ও সভ্য জগতে সুখ শান্তি ছেড়ে মোক্ষ লাভের উদ্দেশ্যে সন্ন্যাস গ্রহন করে।[১৮][১৯] জনসংখ্যার বিচারে হিন্দুধর্ম খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলামের পরেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ধর্মমত। এই ধর্মের অনুগামীদের সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি। এদের মধ্যে প্রায় ৯০ কোটি হিন্দু বাস করেন ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে।[২০][২১] এছাড়া নেপাল (২৩,০০০,০০০), মরিশাস (২৫০,০০০) ও ইন্দোনেশীয় দ্বীপ বালিতে ( ৩০০,০০০) উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হিন্দুরা বাস করেন। হিন্দুধর্মের শাস্ত্রগ্রন্থের সংখ্যা প্রচুর। হিন্দুশাস্ত্র শ্রুতি ও স্মৃতি নামে দুই ভাগে বিভক্ত। এই গ্রন্থগুলিতে ধর্মতত্ত্ব, দর্শন ও পুরাণ আলোচিত হয়েছে এবং ধর্মানুশীলন সংক্রান্ত নানা তথ্য বিবৃত হয়েছে। এই গ্রন্থগুলির মধ্যে বেদ সর্বপ্রাচীন, সর্বপ্রধান ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য প্রধান ধর্মগ্রন্থগুলি হল উপনিষদ্‌, পুরাণ, ও ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত। ভগবদ্গীতা নামে পরিচিত মহাভারতের কৃষ্ণ-কথিত একটি অংশ বিশেষ গুরুত্বসম্পন্ন ধর্মগ্রন্থের মর্যাদা পেয়েছে

Comments

Popular posts from this blog

সন্ধা আরতির বন্দনা

নামযজ্ঞ আরম্ভিল মধুর বৃন্দবনে। হরে কৃষ্ণ হরে রাম বলরে বদনে।। বেলা গেল সন্ধ্যা হল ঘরে ঘরে বাতি। আজি প্রভুর মঙ্গলারতি।। ধূপ দীপ গন্ধ পুষ্প হাতেতে লইয়া। প্রভুর আরতি কর নাচিয়া নাচিয়া।। শঙ্খ বাজে ঘন্টা বাজে,বাজে করতাল। মধুর মৃদঙ্গ বাজে শুনিতে রসাল।। হরি হরি বল সবে আর সব মিছে। পালাইতে পথ নাহি যম আছে পিছে। ব্রহ্মা আদি আদি দেব যারে ধ্যানে নাহি পায়। সে হরি বঞ্চিত হলে কি হবে উপায়। শিব শুক নারদ সবে বেদ বিচারী। পেলনা নামের অন্ত অনন্ত মুরারি।। যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি। নামের সহিত আছে আপনি শ্রীহরি।। হরি নাম কৃষ্ণ নাম বড়ই মধুর। যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর।। নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার। নাম বিনে ভবার্ণবে গতি নাহি আর।। হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ,কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে, হরে রাম,হরে রাম,রাম রাম, হরে হরে

সনাতন ধর্মের সৃষ্টি কিভাবে?

সনাতন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা কে? আমার কাছে এই প্রশ্নটির উত্তর জানতে চেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম থেকে ‘নন্দ গোপাল সরকার’। প্রশ্নের মধ্যে যদিও প্রতিষ্ঠাতা শব্দটি আছে, কিন্ত এটা আসলে হবে প্রবর্তক; কারণ, প্রতিষ্ঠাতা থাকে কোনো ইনস্টিউট বা প্রতিষ্ঠানের, আর প্রবর্তক থাকে কোনো মত বা পথের, প্রকৃত ধর্মের এই সব কিছুই থাকে না; কারণ, প্রকৃতি যখন যা কিছু সৃষ্টি করে বা করেছে তখন তার মধ্যেই তার পরিচালনার বিধি বিধান যুক্ত করে দিয়েই সৃষ্টি করে বা করেছে, এরপর তাতে আর বাড়তি কোনো কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন হয় না। আমার এই পোস্টটি পড়তে থাকলে এই সবগুলো বিষয় আস্তে আস্তে বুঝতে পারবেন। নন্দ গোপাল সরকারের মতোই ক্লাস, সেভেন এইটে পড়ার সময় এক মুসলমানের মুখে এই প্রশ্ন শুনে আমিও নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম। মনে আমারও প্রশ্ন জেগেছিলো সত্যিই তো হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক কে ? কারণ, তখন পর্যন্ত সব ধর্ম সম্পর্কে ডিটেইলস না জানলেও এটা জেনেছিলাম যে, ইসলামের প্রবর্তক হযরত মুহম্মদ, খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক যীশু খ্রিষ্ট বা ঈসা নবী, বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ, তার আগের ইহুদি ধর্মের প্রবর্তক মুসা, কিন্তু হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক কে ? এই প্রশ...

শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের সাথে আসলেই জাকির নায়েকের কোন বিতর্ক হয়েছিল কি?

জাকির নায়েকের সনাতন ধর্মকে কলুষিত করার কিছু অপচেষ্টা ও কিছু কথা জাকির শিষ্যদের কিছু হাস্যকর মায়াকান্না এবং তার ইতিবৃত্ত বিভিন্ন সময় যখন হিন্দুদের পেইজসমূহে হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলো সম্পর্কে দেয়া জাকির নায়েকের মিথ্যা রেফারেন্সগুলো পরিস্কারভাবে খন্ডন করা হয় তখন নিরুপায় ও পরাজিত জাকির শিষ্যরা সেখানে এসেম্যত্কার শুরু করে এবং কিছু খোঁড়া যুক্তি দেখায়।দেখে নেই তাদের সেসকল যুক্তিসমূহের সার্থকতা কতটুকু। যুক্তি ১.জাকির নায়েক তো হিন্দুদের গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর এর সাথে বিতর্ক করেছে এবং জয়লাভ করেছে।রবিশঙ্কর তো আপনাদের চেয়ে বেশী জানেন।উনি যখনজাকির নায়েকের ভূল দেখাতে পারেনিতো আপনারা কে? প্রতিযুক্তি- প্রথমেই আমাদের জানতে হবে যে শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর কে। ১৯৫৬ সালে তামিল নাড়ু তে জন্মনেয়া রবিশঙ্কর মূলত Art of living নামক পৃথিবীর বৃহত্তম “হিউমেনিটারিয়ান&এডুকেশনাল এনজিও” এর প্রতিষ্ঠাতা যিনি একজন যোগ বিশেষজ্ঞ এবং পতঞ্জলি যোগসূত্র দ্বারা উদ্বুদ্ধ একজন দার্শনিক নেতা। বজ্রাসন ও সুখাসনএর মাধ্যমে কৃত সূদর্শন ক্রিয়া এর একজন অনন্য পরিচালক তিনি যার মাধ্যমে তিনি পৃথিবীতে বিদ্যমান হানাহানি ও মূল্যবোধের অবক্ষয় এরঅব...