Skip to main content

শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের সাথে আসলেই জাকির নায়েকের কোন বিতর্ক হয়েছিল কি?


জাকির নায়েকের সনাতন ধর্মকে কলুষিত করার কিছু অপচেষ্টা ও কিছু কথা জাকির শিষ্যদের কিছু হাস্যকর মায়াকান্না এবং তার ইতিবৃত্ত বিভিন্ন সময় যখন হিন্দুদের পেইজসমূহে হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলো সম্পর্কে দেয়া জাকির নায়েকের মিথ্যা রেফারেন্সগুলো পরিস্কারভাবে খন্ডন করা হয় তখন নিরুপায় ও পরাজিত জাকির শিষ্যরা সেখানে এসেম্যত্কার শুরু করে এবং কিছু খোঁড়া যুক্তি দেখায়।দেখে নেই তাদের সেসকল যুক্তিসমূহের সার্থকতা কতটুকু। যুক্তি ১.জাকির নায়েক তো হিন্দুদের গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর এর সাথে বিতর্ক করেছে এবং জয়লাভ করেছে।রবিশঙ্কর তো আপনাদের চেয়ে বেশী জানেন।উনি যখনজাকির নায়েকের ভূল দেখাতে পারেনিতো আপনারা কে? প্রতিযুক্তি- প্রথমেই আমাদের জানতে হবে যে শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর কে। ১৯৫৬ সালে তামিল নাড়ু তে জন্মনেয়া রবিশঙ্কর মূলত Art of living নামক পৃথিবীর বৃহত্তম “হিউমেনিটারিয়ান&এডুকেশনাল এনজিও” এর প্রতিষ্ঠাতা যিনি একজন যোগ বিশেষজ্ঞ এবং পতঞ্জলি যোগসূত্র দ্বারা উদ্বুদ্ধ একজন দার্শনিক নেতা। বজ্রাসন ও সুখাসনএর মাধ্যমে কৃত সূদর্শন ক্রিয়া এর একজন অনন্য পরিচালক তিনি যার মাধ্যমে তিনি পৃথিবীতে বিদ্যমান হানাহানি ও মূল্যবোধের অবক্ষয় এরঅবসান ঘটাতে চান। তিনি কখনোই একজন হিন্দুধর্ম বিশারদ নন এবং একজন বেদজ্ঞানী তো নন বটেই! দ্বিতীয়ত,জাকির নায়েকের সাথে শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের আসলেই কোন বিতর্ক হয়েছিল কি? ভিডিওটি যারা দেখেছেন তারা জানেন যে সেটি ছিল “Concept of GOD in Hinduism&Islam”শীর্ষক আলোচনা সভা। কিন্তু ধূর্তজাকির পুর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী সেখানে কাদিয়ানী লেখক মাওলানা আব্দুল্লা হক বিদ্যার্থীর বই থেকে হুবহু তোতা পাখির মত মুখস্ত উদ্ধৃতি দেন যে পবিত্র বেদ এ মোহাম্মদ এর কথা বলা আছে! অপরদিকেরবিশঙ্করের লেখা একটি বই দেখিয়ে তিনি বলেন যে ভবিষ্য পুরানে মোহাম্মদ এর কথা বলা আছে। একজন ব্যক্তি যিনি বেদ সম্বন্ধে জ্ঞান রাখেন না তার সামনে তোতাপাখির মত রেফারেন্স আওড়ালে কিভাবে প্রমানিত হয় যে জাকির ঠিক বলেছেন? অপরদিকে ভবিষ্য পুরানে মোহাম্মদ সম্পর্কে বলা হয়েছে ঠিক কিন্তু কি হিসেবে? একজন ‘অসুর’ ,’পিশাচ’ ও ‘ধর্মদূষক’ হিসেবে। যুক্তি ২. জাকির শিষ্যরা বলে থাকেজাকির যদি ভূল ই হয় তবে হিন্দুধর্মীয় নেতারা তাকে ধরিয়ে দিচ্ছেনা কেন? প্রতিযুক্তি. এবারে জাকিরের আসল ভন্ডামীটা ধরা পড়ে। বিখ্যাত বৈদিক সংগঠন আর্যসমাজ এর আজমীর পরোপকারিনী সভার পক্ষ থেকে ২০০৪ সাল থেকে এই পর্যন্ত চারবার অফিসিয়ালি ইমেইল এর মাধ্যমে IRF এর জাকির নায়েককে বিতর্কের জন্য আহবান জানানো হয়।কিন্তু ভীত ও ধূর্ত নায়েক জানেন যে বিখ্যাত বেদ গবেষনা সংগঠন আর্যসমাজের পন্ডিতগনের বেদ এর প্রতিটি অক্ষরপর্যন্ত মূখস্থ।তাঁদের সামনে বেদ নিয়ে অপপ্রচার চালানো সম্ভব নয়।চতুর্থবার বিতর্কের চ্যলেন্জজানানোর পর IRF এর পক্ষ থেকে মাওলানা আব্দুল্লাহ তারিক কে পাঠানো হয় বিতর্কে অংশগ্রহনের জন্য।তখন আর্য সমাজের পন্ডিত মাহেন্দ্র পাল আর্য (যিনি নিজেও ৩০ বছর আগে ইসলাম ধর্ম ত্যগ করে হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত হন) আব্দুল্লাহ তারিককে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। (জাকির নায়েকের প্রতিষ্ঠান IRF কেকরা ইমেইলটি এখানে দেখুন- http:// http://www.aryasamaj.or g/newsite /node/ 717) এখন কথা হল IRF এর অনুষ্ঠানসমূহে ভন্ড জাকির যখন হিন্দুধর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন দাবী করেন তখন সেখানে কোন হিন্দুশাস্ত্রবিশারদদের আমন্ত্রন জানানো হয়না কেন?তিনি কি জানেন না যে খালি মাঠে গোল দিলে তা কাউন্ট করা হয়না? পরাজিত ও ভন্ড বরাহ জাকির এবং তারশাবকদের থেকে সতর্ক থাকুন।

Comments

Popular posts from this blog

সন্ধা আরতির বন্দনা

নামযজ্ঞ আরম্ভিল মধুর বৃন্দবনে। হরে কৃষ্ণ হরে রাম বলরে বদনে।। বেলা গেল সন্ধ্যা হল ঘরে ঘরে বাতি। আজি প্রভুর মঙ্গলারতি।। ধূপ দীপ গন্ধ পুষ্প হাতেতে লইয়া। প্রভুর আরতি কর নাচিয়া নাচিয়া।। শঙ্খ বাজে ঘন্টা বাজে,বাজে করতাল। মধুর মৃদঙ্গ বাজে শুনিতে রসাল।। হরি হরি বল সবে আর সব মিছে। পালাইতে পথ নাহি যম আছে পিছে। ব্রহ্মা আদি আদি দেব যারে ধ্যানে নাহি পায়। সে হরি বঞ্চিত হলে কি হবে উপায়। শিব শুক নারদ সবে বেদ বিচারী। পেলনা নামের অন্ত অনন্ত মুরারি।। যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি। নামের সহিত আছে আপনি শ্রীহরি।। হরি নাম কৃষ্ণ নাম বড়ই মধুর। যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর।। নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার। নাম বিনে ভবার্ণবে গতি নাহি আর।। হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ,কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে, হরে রাম,হরে রাম,রাম রাম, হরে হরে

সনাতন ধর্মের সৃষ্টি কিভাবে?

সনাতন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা কে? আমার কাছে এই প্রশ্নটির উত্তর জানতে চেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম থেকে ‘নন্দ গোপাল সরকার’। প্রশ্নের মধ্যে যদিও প্রতিষ্ঠাতা শব্দটি আছে, কিন্ত এটা আসলে হবে প্রবর্তক; কারণ, প্রতিষ্ঠাতা থাকে কোনো ইনস্টিউট বা প্রতিষ্ঠানের, আর প্রবর্তক থাকে কোনো মত বা পথের, প্রকৃত ধর্মের এই সব কিছুই থাকে না; কারণ, প্রকৃতি যখন যা কিছু সৃষ্টি করে বা করেছে তখন তার মধ্যেই তার পরিচালনার বিধি বিধান যুক্ত করে দিয়েই সৃষ্টি করে বা করেছে, এরপর তাতে আর বাড়তি কোনো কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন হয় না। আমার এই পোস্টটি পড়তে থাকলে এই সবগুলো বিষয় আস্তে আস্তে বুঝতে পারবেন। নন্দ গোপাল সরকারের মতোই ক্লাস, সেভেন এইটে পড়ার সময় এক মুসলমানের মুখে এই প্রশ্ন শুনে আমিও নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম। মনে আমারও প্রশ্ন জেগেছিলো সত্যিই তো হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক কে ? কারণ, তখন পর্যন্ত সব ধর্ম সম্পর্কে ডিটেইলস না জানলেও এটা জেনেছিলাম যে, ইসলামের প্রবর্তক হযরত মুহম্মদ, খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক যীশু খ্রিষ্ট বা ঈসা নবী, বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ, তার আগের ইহুদি ধর্মের প্রবর্তক মুসা, কিন্তু হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক কে ? এই প্রশ...