Skip to main content

হিন্দু নির্যাতন আর সহ্য করা হবে না,,,,


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারানসী, ২২ ডিসেম্বরঃ ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী ক্ষেত্র বারানসী সম্মেলন থেকে বাংলাদেশে চলমান হিন্দু নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানালো হোল। ভারতের কেন্দ্রীয় শাসক দলের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সম্মেলনে পরিস্থিতির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পেল বিভিন্ন বক্তাদের বক্তব্যে। বাংলাদেশে বিভিন্ন উগ্র হিন্দু বিদ্বেষী ইসলামী গোষ্ঠীকে সাবধান করে বলা হয় যে সঙ্ঘ্যালঘু নিরীহ হিন্দু মানুষের উপর অত্যাচার জুলুম যদি বন্ধ না হয়, ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। ভারতের সহনশীলতাকে দুর্বল ভাবলে অচিরেই নিজেদের বিপদ ডেকে আনবে। বাংলাদেশের শাসক দলের নেতা কর্মীদের হিন্দু নির্যাতনে অংশ নেবার কঠোর নিন্দা করা হয়। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও বিচারহীনতার তীব্র সমালোচনা করা হয়। মুলতঃ ভারতের প্রতিনিধিদের নিঃসৃত বক্তব্যে এই সাবধান বানী প্রকাশ পায়। বাংলাদেশ থেকে সম্মেলনে যোগদানকারী বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের বক্তারা হিন্দু জনজাতির বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। প্রখ্যাত মানবাধিকার ব্যাক্তিত্ত রবীন্দ্র ঘোষ বর্তমান শেখ হাসীনা সরকারের প্রতি তার আস্থা জানিয়েও দুঃখ প্রকাশ করেন যে তার সংগঠন বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ ২০৩৫টি হিন্দু নির্যাতনের স্বাধীন তদন্ত করে রিপোর্ট পেশ করেছেন, কিন্তু কোন একটি ক্ষেত্রেও অপরাধী মুসলিমদের কোন শাস্তি দেয়া যায়নি। ফলে এই অব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা নতুন অপরাধ সংগঠিত করে চলেছে। ন্যায় বিচার না পেয়ে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভারতমুখী হচ্ছে দিনের পর দিন। যেভাবে চললে বাংলাদেশ অচিরেই হিন্দু শূন্য হবে। অধ্যাপক কুশল চক্রবর্তী শিক্ষা ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্যের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ সনাতন বিদ্যার্থী পরিষদের সভাপতি শ্রী চক্রবর্তী জানান যে বাংলাদেশে হিন্দুরা সার্বিক আক্রমনের লক্ষবস্তু হয়েছেন। একাধারে কট্টরপন্থী ইসলামীদের আক্রমন অন্যদিকে নয়া বৌদ্ধদের ও আম্বেদকর পন্থীদের উৎপাত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্কটে ফেলেছে। তিনি বলেন যে যতদিন দারিদ্র বেকারত্বের সমস্যার সুরাহা না হবে, দেশে কিছু অন্ধকারের জীব দাপিয়ে বেড়াবে। সম্মেলনে দুটি স্লাইড শো পরিবেশন করা হয়। নোয়াখালী দাঙ্গা থেকে শুরু করে নাসিরনগর ও অন্যত্র হিন্দু নির্যাতনের বিবরন ছবি সহ প্রদর্শন করা হয় যা সম্মেলনের গাম্ভীর্যকে বাড়িয়ে তোলে। ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই সম্মেলনের সংবাদ প্রকাশিত হয়। বারানসী সম্মেলনের আহবায়ক সাংবাদিক শেখর রায় মোদী সরকারের বাংলাদেশ নীতির রিভিউ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি বলেন যে মিয়ানমারে সরকারী মদতে যেমন রোহিঙ্গা জনজাতিদের বলপূর্বক দেশ থেকে খালি করানো চলছে, তেমনি সুপরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশকে হিন্দু শূন্য করার প্রক্রিয়া চলছে। পাকিস্তানী আমলের হিন্দুদের শত্রূ মনে করে আজো চালু রাখা হয়েছে নামের ফারাকে অর্পিত সম্পত্তি আইন। প্রায় ১৫ লক্ষ এমন মামলার কোন সুরাহা করা হোল না, গায়ের জোরে দখল নিয়ে রাখা হয়েছে হিন্দুদের ভূসম্পত্তি। হত্যা হিন্দু নারী ধর্ষণ সংখ্যালঘুদের ঘর বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া এক নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। হিন্দু দেবালয় ধ্বংস করা ইসলামের ফরমান মনে করে আওয়ামী লীগ আমলেও পর পর ঘটনা ঘটে চলে যখন নির্যাতিত মানুষ কোন সহায়তা পায় না। একাধিক হিন্দু নেতা কর্মীদের মিথ্যা অভিযোগে গুম খুন চলছে। সাংবাদিকরাও এই সরকারী স্বৈরাচারী শাসনের বলি হয়ে চলেছে। হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামানিক বলেন যে হিন্দুরা এই নির্যাতন আর মুখ বুজে সহ্য করবে না। মহাজোটের ডাকে জেলায় জেলায় হিন্দুদের প্রতিবাদ প্রতিরোধ সেই দিক নির্দেশ করে। তিনি বলেন যে ভারতের সমর্থনে বাংলাদেশে হিন্দুরা তাদের অস্থিত্ত রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক উগ্র ইসলামী মৌলবাদ আজ বাংলাদেশে তাদের ডালপালা বিস্তার করতে সমর্থ হয়েছে। ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বাংলাদেশী সন্ত্রাসীরা অমুসলিমদের আক্রমন করছে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ বরবাদ করছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতিকামী বিভিন্ন ধর্মের মানুষও সরকারি বেসরকারি আক্রমনের শিকার হয়ে চলেছে। এই দুর্বিষহ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে যদি সর্বাত্মক যুদ্ধ না করা যায়, তাহলে সভ্যতার সংকট সমাসন্ন বলে শ্রী প্রামানিক সকলপক্ষকে সাবধান করেন। বারানসী সম্মেলনে সর্বশ্রী রবীন্দ্র ঘোষ , শেখর রায়, গোবিন্দ প্রামানিক, কুশল চক্রবর্তী ও ডঃ অজয় সিংকে বিশেষ ভাবে সম্মানিত করা হয়। ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক সভাপতি ডঃ অজয় সিং জানান যে বাংলাদেশের হিন্দুদের অবস্থা নিয়ে ভারত সরকার খুবই উদ্বিগ্ন। শ্রী সিং বলেন যে পরিমাণ আন্তরিকতা রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশ সরকার প্রদর্শন করে চলেছে তার কনামাত্র আন্তরিকতা হিন্দুদের প্রতি যদি সরকার দেখাতে পারত, তবে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হয়ে উঠত না। তিনি আশা করেন যে হাসীনা সরকার হিন্দুদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান করবে ও দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহন করবে যা ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে। সূত্র: গোবিন্দ প্রমানিক ফেইসবুক আইডি

Comments

Popular posts from this blog

সন্ধা আরতির বন্দনা

নামযজ্ঞ আরম্ভিল মধুর বৃন্দবনে। হরে কৃষ্ণ হরে রাম বলরে বদনে।। বেলা গেল সন্ধ্যা হল ঘরে ঘরে বাতি। আজি প্রভুর মঙ্গলারতি।। ধূপ দীপ গন্ধ পুষ্প হাতেতে লইয়া। প্রভুর আরতি কর নাচিয়া নাচিয়া।। শঙ্খ বাজে ঘন্টা বাজে,বাজে করতাল। মধুর মৃদঙ্গ বাজে শুনিতে রসাল।। হরি হরি বল সবে আর সব মিছে। পালাইতে পথ নাহি যম আছে পিছে। ব্রহ্মা আদি আদি দেব যারে ধ্যানে নাহি পায়। সে হরি বঞ্চিত হলে কি হবে উপায়। শিব শুক নারদ সবে বেদ বিচারী। পেলনা নামের অন্ত অনন্ত মুরারি।। যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি। নামের সহিত আছে আপনি শ্রীহরি।। হরি নাম কৃষ্ণ নাম বড়ই মধুর। যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর।। নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার। নাম বিনে ভবার্ণবে গতি নাহি আর।। হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ,কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে, হরে রাম,হরে রাম,রাম রাম, হরে হরে

সনাতন ধর্মের সৃষ্টি কিভাবে?

সনাতন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা কে? আমার কাছে এই প্রশ্নটির উত্তর জানতে চেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম থেকে ‘নন্দ গোপাল সরকার’। প্রশ্নের মধ্যে যদিও প্রতিষ্ঠাতা শব্দটি আছে, কিন্ত এটা আসলে হবে প্রবর্তক; কারণ, প্রতিষ্ঠাতা থাকে কোনো ইনস্টিউট বা প্রতিষ্ঠানের, আর প্রবর্তক থাকে কোনো মত বা পথের, প্রকৃত ধর্মের এই সব কিছুই থাকে না; কারণ, প্রকৃতি যখন যা কিছু সৃষ্টি করে বা করেছে তখন তার মধ্যেই তার পরিচালনার বিধি বিধান যুক্ত করে দিয়েই সৃষ্টি করে বা করেছে, এরপর তাতে আর বাড়তি কোনো কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন হয় না। আমার এই পোস্টটি পড়তে থাকলে এই সবগুলো বিষয় আস্তে আস্তে বুঝতে পারবেন। নন্দ গোপাল সরকারের মতোই ক্লাস, সেভেন এইটে পড়ার সময় এক মুসলমানের মুখে এই প্রশ্ন শুনে আমিও নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম। মনে আমারও প্রশ্ন জেগেছিলো সত্যিই তো হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক কে ? কারণ, তখন পর্যন্ত সব ধর্ম সম্পর্কে ডিটেইলস না জানলেও এটা জেনেছিলাম যে, ইসলামের প্রবর্তক হযরত মুহম্মদ, খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক যীশু খ্রিষ্ট বা ঈসা নবী, বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ, তার আগের ইহুদি ধর্মের প্রবর্তক মুসা, কিন্তু হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক কে ? এই প্রশ...

শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের সাথে আসলেই জাকির নায়েকের কোন বিতর্ক হয়েছিল কি?

জাকির নায়েকের সনাতন ধর্মকে কলুষিত করার কিছু অপচেষ্টা ও কিছু কথা জাকির শিষ্যদের কিছু হাস্যকর মায়াকান্না এবং তার ইতিবৃত্ত বিভিন্ন সময় যখন হিন্দুদের পেইজসমূহে হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলো সম্পর্কে দেয়া জাকির নায়েকের মিথ্যা রেফারেন্সগুলো পরিস্কারভাবে খন্ডন করা হয় তখন নিরুপায় ও পরাজিত জাকির শিষ্যরা সেখানে এসেম্যত্কার শুরু করে এবং কিছু খোঁড়া যুক্তি দেখায়।দেখে নেই তাদের সেসকল যুক্তিসমূহের সার্থকতা কতটুকু। যুক্তি ১.জাকির নায়েক তো হিন্দুদের গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর এর সাথে বিতর্ক করেছে এবং জয়লাভ করেছে।রবিশঙ্কর তো আপনাদের চেয়ে বেশী জানেন।উনি যখনজাকির নায়েকের ভূল দেখাতে পারেনিতো আপনারা কে? প্রতিযুক্তি- প্রথমেই আমাদের জানতে হবে যে শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর কে। ১৯৫৬ সালে তামিল নাড়ু তে জন্মনেয়া রবিশঙ্কর মূলত Art of living নামক পৃথিবীর বৃহত্তম “হিউমেনিটারিয়ান&এডুকেশনাল এনজিও” এর প্রতিষ্ঠাতা যিনি একজন যোগ বিশেষজ্ঞ এবং পতঞ্জলি যোগসূত্র দ্বারা উদ্বুদ্ধ একজন দার্শনিক নেতা। বজ্রাসন ও সুখাসনএর মাধ্যমে কৃত সূদর্শন ক্রিয়া এর একজন অনন্য পরিচালক তিনি যার মাধ্যমে তিনি পৃথিবীতে বিদ্যমান হানাহানি ও মূল্যবোধের অবক্ষয় এরঅব...