সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির এবং বাড়িঘরে আগুন লুটপাটসহ বিবিধ প্রকার নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। শেষ কিছুদিনের মধ্যে পরপর কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। যার ফলাফলটা একই। এবারের ঘটনাটি ফরিদপুরের।
ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা সদরের গাঙজগদিয়া সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের ৫টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। মন্দির কমিটির সহসভাপতি দুলাল চন্দ্র বর্মণ জানান, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মন্দিরের দূর্গা ও সরস্বতী প্রতিমাসহ ৫টি প্রতিমার মুখ ও মাথা ভেঙে ফেলে। গতকাল শনিবার সকালে কয়েকজন ভক্ত মন্দিরে গিয়ে প্রতিমা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
নগরকান্দা থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, ঘটনা খুবই দুঃখজনক। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। দুর্বৃত্তদের শিগগিরই শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে একটা অদ্ভূত পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। হিন্দু এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে কোন বিষয় নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হলে সেটার রেষ গিয়ে পড়ে মন্দিরের প্রতিমার ওপর, শুরু হয় লুটপাট। গত সপ্তাহে বগুড়ায় দূর্গা প্রতিমার মাথা ও হাত ভেঙে নিয়ে গেছে কেউ, গতকাল নরসিংদীতে প্রতিমা শিল্পীর বাড়িতে ৯টি প্রতিমা ভাঙচুর হলো, কিছুদিন আগে নওগাঁয় সেচ প্রকল্প নিয়ে ঝামেলার জেরে ভাঙা হয়েছে প্রতিমা। কিছুদিন আগে হত্যার উদ্দেশ্যে তালা আটকে দিয়ে ঘরে আগুন দেয়া হয় এক হিন্দু পরিবারের। তার আগে রংপুরের ঘটনার পেছনে একটা নাশকতার ছক তৈরী করা হয়েছে সম্পূর্ণ নির্দোষ একজনকে ফাঁসিয়ে। একইভাবে এই মাসের শুরুতে ফরিদপুরেও এক হিন্দু যুবকের দোকান লুট হয়। গত মাসের শেষের দিকে কুমিল্লায় পূজা মন্ডপে গন্ডগোল লাগিয়ে তার জেরে মুসলমান যুবকেরা মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর চালায়। এসব হচ্ছে গত কিছুদিনের ঘটনা প্রবাহ। এভাবে পেছনে গেলে আরও অনেক অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা উঠে আসবে। এসবের শেষ কোথায়?
Comments
Post a Comment